না পাওয়া ভালোবাসা

আজও আমি ভালো থাকার চেষ্টা করি। তোমাকে ভুলতে ইচ্ছা করলেও ভুলতে পারি না। আমাদের ভালোবাসায় কোনো কমতি না থাকলেও ভাগ্যে তুমি আমার ছিলে না...
আমি জুনায়েদ। একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে জভ করি আর আমি যার কথা বলছি সে মিথিলা। ওই ছিলো আমার প্রথম ও শেষ প্রেম। আজ থেকে ১০ বছর আগে.....
Image result for sad story pic
জুনায়েদঃ hallow!! 😎😎
মিথিলাঃhi 😊😊
জুনায়েদঃ আমি এই কলেজ এ নতুন। আপনি কি আমার ফ্রেন্ড হবেন??
মিথিলাঃ আমিও এই কলেজ এ নতুন। তাই আমারও কোনো ফ্রেন্ড নেই। আজ থেকে আমি আর আপনে ফ্রেন্ড।
জুনায়েদঃ আপনার নামটা কি??
মিথিলাঃ আমরা এখন ফ্রেন্ড তাই তুমি বা তুই করেই বললে ভালো হয়
জুনায়েদঃ হুম...
মিথিলাঃ আমি মিথিলা চৌদুরি
জুনায়েদঃ আমি জুনায়েদ তানবি শ্রাবণ
এইভাবেই শুরু হয় তাদের ফ্রেন্ডশিপ। জুনায়েদ খুব ভালো গান গাইতে পারতো তাই বেশিরভাগ সময় মেয়েরা তার চারপাসে ঘুরত। কিন্তু মিথিলা এটা একেবারেই দেখতে পারতো না। জুনায়েদ বিষয়টা বুঝলেও সে ওই কাজ গুলাই বেশি করতো যে গুলা করলে মিথিলা রেগে যায়। একদিন একটি মেয়ে জুনায়েদ কে প্রপস করে। মিথিলাকে দেখে জুনায়েদ মেয়েটির হাত থেকে ফুলটি নিয়ে নেয়। মিথিলা তা দেখে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। জুনায়েদও তার পিছু পিছু ছুটতে শুরু করে। মিথিলার সামনে গিয়ে দেখে সে খুব কাঁদছে.....
জুনায়েদঃ কি তুই কাঁদতেছিস কেন??
মিথিলাঃ তোকে বলার দরকার মনে করি না
জুনায়েদঃ তুই কাঁদলে তাতে আমার কি আমি আমার নতুন gf এর কাছে যাই। (জুনায়েদ এই বলেই হাটা শুরু করলো, সে জানে মিথিলা তাকে ঠিক পিছু ডাকবে)
মিথিলাঃ ওই তুই ওই মাইয়াটার কাছে যাবি না 😠😠
জুনায়েদঃ আমি যদি ওর কাছে যাই তাইলে ও আমাকে ইএএএএ দিবে ( ওকে আরো রাগানোর জন্য)
মিথিলাঃ না তুই যাবি না 😤😤
জুনায়েদঃ ঠিক আছে যাবোনা তাইলে ওইটা তুই দিয়া দে 😜😜
মিথিলাঃ (একটু লজ্জা পেলেও বললো) দিতে পারি কিন্তু তার আগে প্রপস কর 🙊🙊
জুনায়েদঃ i love you মিথি..
মিথিলাঃ ওই এই মিথি টা আবার কে?? 😒😒
জুনায়েদঃ আমার এই পাগলিটারে ভালোবেসে আমি মিথি ডাকবো তাতে তোর কি?? 😜😜
মিথিলাঃ i love you too পাগলির পাগল 😉😉
এইভাবেই শুরু হয় তাদের ভালোবাসা। কারো ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিলো না। জুনায়েদ ও আর কোনো মেয়েকে গান শুনাতো না। কেও গান শুনাতে বললে বলতো তার সব গুলা গান তার ভালোবাসার পাগলিটির জন্য। প্রতিদিন মিথিলাকে জুনায়েদ একটি করে গান শুনাতো। যে দিন গান শুনাবে না বলতো সেদিন মিথিলার রাগ আর অভিমান তার চোখ এর চল হয়ে পরতো। জুনায়েদ ও তার এই অভিমান আর রাগ গুলা ভাঙতে নানা রকম কিছু করতো। তাদের মাঝে যতই জগরা হোক তাদের মাঝে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিলো না। তারা এখন একে অপর কে তুমি করে বলে। মাঝে মাঝে মিথিলা একটু বেশি রেগে গেলে তুই করে বলে..
মিথিলাঃ শোনো না একটু..
জুনায়েদঃ হুম... বলো
মিথিলাঃ আমাদের ছেলেটার কি নাম রাখবো?? 😊😊
জুনায়েদঃ আমাদের ছেলে আসলো কোথা থেকে?? আমাদের তো এখনো বিয়েই হয় নাই 😵😵
মিথিলাঃ এখন হয়নি কিন্তু পরে তো হবে... 😒😒
জুনায়েদঃ কিন্তু তাতে ছেলের নাম ভাবার কি দরকার?? আমাদের তো আগে একটা মেয়ে হবে।
মিথিলাঃ তুমি বেশি বুঝো??
জুনায়েদঃ হুম..
মিথিলাঃ (একটু রেগে গিয়ে) ওই তুই এতো বেশি বুঝোছ কেন??😤😤
জুনায়েদঃ না না আমি তো বলছি আগে আমাদের একটা ছেলে হবে তার পরে মেয়ে 😁😁
মিথিলাঃ হুম্ম.. মনে থাকে যেন। এখন আমায় একটু শক্ত করে জরিয়ে দরো😊😊
জুনায়েদঃ আমি পাগলিদের জরিয়ে দরি না 😎😎
মিথিলাঃ তুমি কয় জনরে জরাইয়া দরছো যে কইতাছো পাগলিদের আমি জরাইয়া দরি না?? 😡😡
জুনায়েদঃ (ওকে একটু রাগানোর জন্য বললো অনেক কেই তো দরছি 😏😏
মিথিলাঃ (জুনায়েদ এর কলার দরে) তুই তুই তুই.. একটা লুচ্চা, হারামি, দোকাবাজ, চিটার, বাটপাড়, ইতর... বলেই কাঁদতে শুরু করলো
জুনায়েদ এর এইবার নিজেকে বেশিই অপরাধি মনে করতে শুরু করে। জুনায়েদ মিথিলাকে জরিয়ে দরে। এইবার মিথিলা আরো বেশি ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে শুরু করে করে। জুনায়েদ ওকে আরো শক্ত করে জরিয়ে দরে। কারন জুনায়েদ জানে এইবার ও কাঁদবে না। সত্যিই মিথিলার কান্না থেমে গেলো। সেও শক্ত করে জরিয়ে দরলো। কিন্তু তাদের কপালে আর সুখ সইলো না। একদিন মিথিলা কলেজ এ এসেই জুনায়েদ জরিয়ে দরে কাঁদতে শুরু করলো ....
জুনায়েদঃ তুমি কাঁদতেছো কেন?? তোমাকে কি কেও কিছু বলেছে???
মিথিলাঃ সুদুই কেঁদে যাচ্ছে
জুনায়েদঃ তুমি আমায় বলো কি হয়েছে আমি সব ঠিক করে দিবো
মিথিলাঃ আমার বিয়ে ঠিক করেছে বাবা
জুনায়েদঃ এইবার সেও আর কিছুই বলতে পারলো না। তার গলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
তারা দুজনেই শুদু পাথড়ের মতো কান্না করতেছে।
মিথিলা এক সময় ভলে উঠলো..
মিথিলাঃ চলো আমরা পালিয়ে বিয়ে করি
জুনায়েদঃ আমরা পালাবো না। আমরা কি তোমার বাবা মাকে বুজাতে পারি না আমরা একে অপর কে কতটা ভালোবাসি?? ( সুধু তোমার বলার কারন জুনায়েদ এর বাবা মা অনেক আগেই তাকে ছেড়ে চলে যায়)
মিথিলাঃ হুম, চলো এখনই তবে যাওয়া যাক
তারা দুজনেই মিথিলার বাবা মাকে সবটা খুলে বললো। মিথিলার বাবা তাদের বিয়েতে রাজি থাকার অবিনয় করলেও তিনি তার মেয়েকে একটি অনাথ ও বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে রাজি নয়। কারন জুনায়েদ এর বাবা মা যে আগেই এই পৃথিবি ছেড়ে চলে গেছেন আর সে এখন ও পড়ালেখা করতেছে তাই সে মিথিলা কে ভালো মত রাখতে পারবে না। তাই মিথিলার বাবা জুনায়েদ কে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার সেই রাতেই তার বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। জুনায়েদ জখন সব জানতে পারে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার ভালোবাসার পাগলিটি সেই বিয়েটি মানতে না পেড়ে তাদের সবাইকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে। যাওয়ার সময় সে জুনায়েদ এর জন্য একটা চিঠি রেখে যায়। তাতে লেখা ছিলো...
তুমি প্লিজ আমার উপরে অভিমান করো না। আমি অন্য কাওকে আমার সাম্বি হিসেবে মানতে পারবো না ভেবেই তোমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেলাম। তুমি ভালো থেকো আর নিজের খেয়াল রেখো। তুমি যদি ভালো থাকো তা হলে আমিও ভালো থাকবো। আমার লাশটাকে শেষ বারের মত একবার শক্ত করে জরিয়ে ধরো। জুনায়েদ অনেক চেষ্টা করেও তার ভালোবাসার পাগলিটার কাছে যেতে পারেনি। কারন মিথিলার পরিবার মনে করতো মিথিলার মৃত্যুর জন্য জুনায়েদই দাই।
১০ বছর পরে জুনায়েদ আজ অনেক টাকার মালিক। এই শহরের সব থেকে বড়লোক কিন্তু সে নিজেকে আজও মিথিলাকে ছাড়া দূরে রাখতে পারেনি। এই দিনটিতেই মিথিলা তার জিবনে এসেছিলো আর এই দিনটাতেই সে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। জুনায়েদ প্রতিদিন তার কবরের পাশে গিয়ে গান গায়। কারন জুনায়েদ চায় না তার ভালোবাসার মিথি পাগলিটা আর অভিমান করূক।
সব সময় ভালোবাসাটা সত্যি হলেও সময়টা তাদের ভালোবাসার পক্ষে থাকে না। বেচে থাকুক তাদের মতোন অপুণ্য ভালোবাসাগুলো।
বিঃদৃঃ ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন

Post a Comment

0 Comments