“অসাধারন একটি গল্প”

প্রিয়ন্তী অসম্ভব রূপবতী একজন মেয়ে,
বড়লোক মা-বাবার একমাত্র আদরের
দুলালী,
একটা প্রাইভেট
ভার্সিটিতে বিবিএ
ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে…
প্রিয়ন্তীর বাবা আফতাব সাহেব
আর
মা রোজিনা বেগম বেশীরভাগ
সময়
কানাডাতে থাকেন,
বাসায় মাত্র
দুটি প্রানী প্রিয়ন্তী আর
কাজের মেয়ে মায়া…
…যদিও মেয়েটার নাম
শেফালী আক্তার,
কিন্তু প্রথম যেদিন প্রিয়ন্তীর
বাবা মেয়েটাকে নিয়ে আসে ওকে দেখে প্রিয়ন্তীর
অনেক মায়া লাগে,
১৫বছর বয়সের একটা মেয়ে,গায়ের
রঙ
শ্যামলা,
মেয়েটার বাবা-মা অনেক আগেই
মারা গেছে,চাচার কাছে বড়
হয়েছে,
মায়াবী একটা হাসি সব সময়
মুখে লেগেই
থাকে…
সব কাজেই পারদর্শী,
আর সব সময়
পাকনা পাকনা কথা মুখে খইয়ের
মতো ফুটতে থাকে…
…মায়া চা নিয়ে এসে দেখে প্রিয়ন্তী এখনো ঘুমচ্ছে,
সচরাচর
প্রিয়ন্তী এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমায়
না…
; আফা আফনের চা নিয়া আইছি,
ঘুম থেকে উঠেন…
;- তোকে কতো দিন
বলেছি ঘুমিয়ে থাকলে এতো জোরে ডাকবি না,
আর এমন অশুদ্ধ ভাষায়
কথা বলবি না আমার
সামনে…
; আপু আপনার চা নিয়ে এসেছি…
উঠেন খাবেন…
……মায়ার
কথা শুনে প্রিয়ন্তী হেসে ফেলে,
এই মেয়েটার এই একটা গুন অসম্ভব
রকম…
প্রিয়ন্তীকে যে কোন সময়
কথা বলে মন
ভালো করে দেয়…
;- তুইতো সুন্দর
করে কথা বলতে পারিস,
তারপরও ঐভাবে কথা বললি কেন ?
; মার কথা মনে পরতেছিল তাই,
আমার মা এইভাবে কথা বলতো
;- আচ্ছা চা দে…
আজ দুপুরে আমার জন্য রান্না করিস
না,আমি বাহিরে খাবো…
; আপু একটা কথা বলবো ?
;- বল…
;
বেশী ঘুমাইলে আপনি মোটা হয়ে যাবেন,
পরে কেউ
আপনেরে বিয়ে করবো না,
পুরুষ মানুষ নাকি মোটা মেয়ে পছন্দ
করে না…
;- বেশী পাকনা হইছিস তাই না ?
যা এখান থেকে…
……মায়া এক
দৌড়ে রান্না ঘরে চলে যায়,
প্রিয়ন্তী চা খেয়ে আয়নার
সামনে এসে দাঁড়ায়,
ভালো করে ঘুরে ফিরে নিজেকে দেখছে আয়নাতে…
একবার
মনে হচ্ছে সত্যি মোটা হয়ে যাচ্ছে,
আবার মনে হচ্ছে না কই
ঠিকইতো আছে…
প্রিয়ন্তী গোসল করে এসে অনেক্ষন
সময়
নিয়ে সাজলো,
আজ সারাদিন কাব্যের
সাথে কাটাবে,
আজ প্রিয়ন্তীর জন্মদিন…
কাল অনেক রাত পর্যন্ত কাব্যের
সাথে ফোনে কথা হয়েছে তাই
আজ
উঠতে দেরী হয়ে গেছে…
……কাব্য প্রিয়ন্তীর অনেক
ভালো একটা বন্ধু,
ঢাকা ভার্সিটি থেকে এপ্লাইড
কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স করে এখন
একটা কম্পানীতে চাকুরী করছে…
কাব্য স্বাধীনচেতা ছেলে,
তার উপর কারো অধিকার
দেখানো একদম
পছন্দ করে না,
অনেক বদরাগী ছেলেটা কিন্তু
ভিতরটা আবেগ আর মায়ায়
পরিপূর্ন…
অতিরিক্ত স্বাধীনচেতা আর
বদরাগী হওয়ায় একটা চাকুরীতে খুব
বেশীদিন থাকতে পারে না,
এখন পর্যন্ত
যতগুলো চাকুরী ছেড়েছে সবগুলো থেকে নিজেই
রিজাইন নিয়েছে…
এখন
যে চাকুরীটা করছে এটা নিয়েছে একমাস
হলো…
……কাব্য যে প্রিয়ন্তীর শুধু বন্ধু
তা বললে ভুল হবে,
প্রিয়ন্তী কাব্যকে অসম্ভব রকম
ভালোবাসে,
আর কাব্যও অনেক
ভালোবাসে প্রিয়ন্তীকে…
কিন্তু কেউ কাউকে এখন পর্যন্ত
বলেনি,
প্রিয়ন্তী ভাবে কাব্য
যদি কখনো প্রপোজ
করে তাহলে নিজের মনের
কথা বলবে,
আর কাব্য অনেকটা বাস্তববাদী,
কাব্য
ভাবে ভালোবাসা থেকে বন্ধুত্তের
সম্পর্ক অনেক ভালো,
কারন
ভালোবাসলে সাথে সাথে কিছু
চাহিদা চলে আসবে যেটা ধীরে ধীরে দূরত্ব
বাড়িয়ে দিবে,
কারন প্রিয় মানুষগুলোর খুব
কাছে গেলে তার
প্রতি ধীরে ধীরে আকর্ষন
কমে যায়…
……প্রিয়ন্তী আর কাব্যের পরিচয়ও
হয়
একটা ঘটনার মাধ্যমে,
প্রিয়ন্তী তার এক বান্ধবীর
জন্মদিনে গিফট
দিবে বলে একটা গিফট
শপে যায়,
ঐদিন কাব্যও তার বন্ধুর বোনের
জন্মদিনের
গিফট কিনার জন্য সেই গিফট
শপে যায়…
কিন্তু
টাকা পে করে গিফটা নেওয়ার
সময়
গিফট এক্সচেঞ্জ হয়ে যায়…
পরে প্রিয়ন্তী গিফট
শপে আসে গিফট
এক্সচেঞ্জ করতে,
এসে দেখে কাব্যও গিফট এক্সচেঞ্জ
করতে এসে দাঁড়িয়ে আছে…
তারপর নিজেদের বোকামীর জন্য
কিছুক্ষন
কথা বলে গিফট এক্সচেঞ্জ
করে নিয়ে যায়…
কাকতালীয়ভাবে প্রিয়ন্তীর
বান্ধবী হলো কাব্যের বন্ধুর বোন…
আর সেখান থেকে অল্পসল্প
কথা তারপর
ফোন নাম্বার বিনিময়…
কাব্যের কথা শুনে অসম্ভব
ভালো লেগেছিলো প্রিয়ন্তীর,
তাই নিজে থেকেই ফোন নাম্বার
চেয়ে নিয়েছিলো…
___প্রিয়ন্তী ভাবলো কাব্যকে ফোন
দিয়ে জেনে নিবে কতক্ষন
লাগবে আসতে,
কারন কাব্য সব সময়ই ঠিক
সময়ে চলে আসে আর
প্রিয়ন্তী দেরী করে গেলেই
বাধে বিপত্তি,
শেষে কাব্যের রাগ ভাঙ্গাতেই
অনেক
সময় লাগে…
;- এই তোমার কতক্ষন লাগবে আসতে ?
= তুমি ১২টার মাঝে নিউমার্কেট
থাকবে তারপর সেখান
থেকে যেখানে যাই যাবো…
;- ওকে…
= সি ইউ…
……প্রিয়ন্তী আর কাব্য রিক্সায়
বসে আছে,
কাব্য আজ
প্রিয়ন্তীকে দেখে অনেকটা অবাক
হয়ে গেছে,
নীল শাড়ীতে প্রিয়ন্তীকে অসম্ভব
সুন্দর
লাগছে…
একদম স্বর্গের অপ্সরী…
শাড়ীটা গতকাল কাব্যই গিফট
করেছে…
= আজ তোমাকে অসম্ভব সুন্দর
লাগছে প্রিয়ন্তী…
;- কেন,অন্যদিন কি অসুন্দর লাগতো ?
= আমি কি সেটা বলেছি ?
আজ একটু অন্যরকম সুন্দর লাগছে,
অনেক প্রানবন্ত,জীবন্ত আর
মায়াবী…
;- হা হা হা…
= হাসছো কেন ?
;- না,ভাবছি আজ সূর্য কোন দিক
দিয়ে উঠলো…
= ইশশ তুমি না…
যাও পচাঁ লাগছে তোমায়…
;- আচ্ছা বাবা সরি…
……কাব্য চুপ করে রিক্সায়
বসে আছে,
গন্তব্য ধানমন্ডী লেক,
কাব্যের ইউএস এতে স্কলারশীপ
হয়েছে পিএইচডি করার জন্য,
কালই ফ্লাইট…
এতোদিন ইচ্ছে করেই
প্রিয়ন্তীকে বলেনি,
ভাবছে আজ নিজের মনের
কথা প্রিয়ন্তীকে জানাবে…
সামনা-
সামনি দাঁড়িয়ে আছে দু’জন……
;- আচ্ছা সরি বলেছিতো,
এই দেখো কান ধরেছি এবার মাফ
করো…
আমি জানি আমাকে অনেক সুন্দর
লাগছে,
কারন কাব্যের
দেওয়া শাড়ী পড়েছিতো…
= প্রিয়ন্তী আমি কাল ইউএস
এতে চলে যাবো,
আমার স্কলারশীপ হয়েছে…
……প্রিয়ন্তীর
হাসিমাখা মুখটা মূহুর্তে মলিন
হয়ে গেল,
মনে হচ্ছে চারদিক শুন্য
হয়ে গেছে এক
নিমিষে…
কেউ যেন ধাক্কা দিয়ে অনেক উপর
থেকে শুন্যে ফেলে দিলো প্রিয়ন্তীকে…
প্রিয়ন্তী কাঁদছে,
কাব্যের
সামনে কাঁদতে চাচ্ছে না তাও
চোখ থেকে অঝরে পানি পড়ছে…
= আরেহ বাবা কি হয়েছে ?
আমি বলিনি কাল
আমি মারা যাবো,
বলেছি কাল ইউএস এ যাবো…
মাত্র ১বছরের জন্য…
……প্রিয়ন্তী হঠাৎ
কাব্যকে জড়িয়ে ধরে আরও
বেশী করে কান্না শুরু করে,
কাব্য চুপ
করে আছে,কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না…
;-
আমি তোমাকে ভালোবাসি কাব্য,
ইচ্ছে করলে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারো,
আর ইচ্ছে করলে ……
…কাব্য প্রিয়ন্তীকে আরও শক্ত
করে জড়িয়ে ধরে,
ইচ্ছে করছে ওকে ছেড়ে আর
কোথাও
না যেতে…
= আমিও তোমাকে অনেক
ভালোবাসি প্রিয়ন্তী,
আজ বলবো ভেবেছিলাম তার
আগেই
তুমি বলে দিলে…
;- এতোদিন বলোনি কেন ?
কাল চলে যাবে আর আজ বলছো…
আমি এই এক বছর
কিভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া ?
কাব্য আমাকে আরও শক্ত
করে জড়িয়ে ধরোনা প্লীজ,
আমি চাই তোমার সবটা স্পর্শ আমার
মাঝে লেগে থাকুক,
তোমার শরীর গন্ধ আমার এই
শাড়ীতে মিশে থাকুক…
যার স্মৃতি নিয়ে একটা বছর
কাটাবো…
= আমিতো তোমার মাঝে সেই
কবেই
মিশে গেছি,
আর আমার গন্ধ দিয়ে কি হবে হু ?
;- এই শাড়ীটা আবার সেদিন
পড়বো যেদিন
তুমি ফিরে আসবে…
এর মাঝে শাড়ীটাতে শুধু তোমার
স্পর্শ
অনুভব করবো…
= আচ্ছা, তাহলে একটু কাছে আসো,
তোমার ঠোঁটেও একটু স্পর্শ
দিয়ে দেই…
;- কাব্য তুমি অনেক দুষ্ট হয়েছো তাই
না ?
……প্রিয়ন্তী নীল
শাড়ীটা পড়ে আয়নার
সামনে দাঁড়িয়ে আছে,
ভাবছে আজও কি আমায় অসম্ভব সুন্দর
লাগছে ?
আজ কাব্যের পরিবার
প্রিয়ন্তীকে দেখতে আসবে…
;- মায়া এদিকে আসতো…
; জি আপু ?
;- আমাকে কেমন লাগছে দেখতে ?
; একেবারে পরীর মতো…
;- তুই কখনো পরী দেখেছিস ?
; না আপু…
;- তাহলে যেমন লাগছে সেটা বল…
; আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে,
কিন্তু কপালে একটা টিপ
দিলে আরও
বেশী সুন্দর লাগবে…
;- এই নে ৫০০টাকা এটা তোর গিফট,
সত্যি কথা বলার জন্য…
……কাব্য আর প্রিয়ন্তীর
পারিবারিকবাবে বিয়ে হয়ে যায়,
প্রিয়ন্তী বধূ সেজে বাসর
ঘরে বসে আছে,
কাব্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদ
দেখছে…
একদিন ভেবেছিল
একসাথে বসে চাঁদ
দেখবে…
কাব্য রুমে গিয়ে প্রিয়ন্তীর হাত
ধরে বারান্দায়
নিয়ে আসে প্রিয়ন্তীকে…
প্রিয়ন্তী কাব্যের হাত
ধরে,কাধে মাথা রেখে চাঁদ
দেখছে…
…কাব্য নিজের
লেখা কবিতা আবৃত্তি করছে______
“একদিন স্বপ্ন দেখতাম,
তুমি আমার হবে…
যেভাবে ছিলে পাশে,
চিরদিন আমারই রবে…
আজ তুমি আমার,
শুধুই আমার…
তোমায় নিয়ে করবো আজ
জোছনা স্নান,
তোমাতে হারিয়ে হয়ে যাবো একাকার…
তোমায় ভালোবাসার জন্য,
পৃথিবীতে ফিরে আসবো বারবার”
0 Comments